ads

#সোমদেব_স্বচ্ছ_শুভ্রতার_প্রতিমূর্তি


Writter Jinia Moon
আকাশগঙ্গা!! অনন্ত নীলিমায় পরিপূর্ন এই মহাশূন্য। আমাদের এই পৃথিবীর বাইরে রয়েছে অসংখ্য গ্রহ এবং গ্রহাণুপুঞ্জ। অনন্তকাল ধরে ভোরের সূর্যোদয় এবং রাতের চন্দ্রদয় দেখে অভ্যস্ত আমাদের মানবচক্ষু। এইযে রাতের তারকাখচিত আকাশে চন্দ্র অলংকার হিসেবে শোভাবর্ধন করে, আসলে তা একটি উপগ্রহ মাত্র। সেতো সূর্যের দ্বারা আলোকপ্রাপ্তা। কিন্তু হিন্দু পুরান, বৈদিক সাহিত্যে এই চন্দ্রের অসাধারণ মাহাত্ম্য রয়েছে।
বৈদিক যুগে এই চন্দ্র পূজিতা হতেন মাতৃরূপে, দেবীরূপে, চন্দ্রকিরন কে মনে করা হত স্নিগ্ধতার প্রতীক, সুস্থতার প্রতীক। আমাদের মন মানসিকতার কারক গ্রহ এই চন্দ্র বা সোমা। শ্রী শ্রী চন্ডীর একাদশ অধ্যায়ে নবগ্রহ স্তোত্রমে চন্দ্রকে বর্ননা করা হয়েছে "তুষারাবৃত, ক্ষীরোদ বর্ন"। অর্থাৎ কিনা, যার বর্ন দুধের ন্যায় শুভ্র এবং যার আলোকের স্নিগ্ধতা সৌন্দর্য ক্ষীরের সমতুল্য। চন্দ্রকে বলা হয় ক্ষপাকর(one who dispells darkness), অত্রিষ্টা(Son of Atri), নিশাকর(the night maker), তারাধীপ(lord of stars) আর ইন্দু(the bright drop)। ঋগবেদে উল্লেখ রয়েছে এই চন্দ্র থেকেই তৈরী হয় "সোমরস" যা কিনা দেবতারা পান করে অমরত্ব লাভ করতেন। এই চন্দ্রই আবার অবস্থিত স্বয়ং মহাদেবের মস্তকে। পাশ্চাত্য দেশেও চন্দ্রকে পূজা করা হয় গাছপালা, ফসল বা ফুল লতাপাতার দেবীরূপে। বৌদ্ধ আকর গ্রন্থগুলিতে অবশ্য "চন্দ্র" (pali, chandima) এবং "সোমা" কে আলাদা ভাবেই রাখা হয়েছে।
এই সোমা আর চন্দ্র এক কিনা, তা নিয়ে বিস্তর মতপার্থক্য রয়েছে গবেষক দের মধ্যে। কিছু গবেষক এমন অনেক দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন যে চন্দ্র এবং সোমার কথার উল্লেখ রয়েছে বৈদিক যুগের পরবর্তীতে। বৈদিক মতে বিভিন্ন যাগযজ্ঞের মন্ত্রে চন্দ্রের একটি বড় ভূমিকা ধরা হত। শিল্পকলা, চারুকলা, স্নেহ মমতার প্রতীক এই চাঁদ শুধু সাহিত্যেই নয়, হিন্দু পুরানেও হয়েছে সমানভাবে সমাদৃত। হিন্দুপুরান অনুযায়ী চন্দ্রের সৃষ্টি হয়েছে সূর্যদেব থেকেই এবং এই চন্দ্র অমরত্বের প্রতীক, চন্দ্রকিরন অমৃতের সমান পবিত্র। সৌন্দর্য এবং শুভ্রতার অপর নাম শশাঙ্ক এর চিত্রটি অতি মধুর। যদিও হিন্দু পুঁথি গুলিতে আলাদা বর্ননা রয়েছে। তবে ছবি অনুযায়ী চন্দ্রদেব শুভ্রবর্নের। হাতে চাবুক, একটি ঘোড়ার গাড়ির উপর তিনি উপবেশন করে আছেন, এবং গাড়িটি টানছে তিনটি বা তার অধিক সাদা ঘোড়া। তবে কিছু ছবিতে ঘোড়ার জায়গায় হরিন থাকতেও দেখা যায়। বৌদ্ধ ও জৈনধর্মেও এই সোমা (moon deity) এর কথা পাওয়া যায়।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে চন্দ্র একটি উপগ্রহ মাত্র। কিন্তু প্রাচীন হিন্দু জ্যোতির্বিদ্যায় চন্দ্রকে ধরা হয় মন মানসিকতার কারক গ্রহ হিসেবে। তিথি, পক্ষ, নক্ষত্র সবই হয় চন্দ্রকে ধরেই। সংস্কৃত
আকরগ্রন্থ গুলিতে এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পঞ্চম শতাব্দী তে "আর্যভট্ট" নামক গ্রন্থে আর্যভট্ট, ষষ্ঠ শতকে "রোমক" নামক গ্রন্থে লতাদেব আবার "পঞ্চসিদ্ধান্তিকা" গ্রন্থে বরাহমিহির গনিতের সাহায্যে চন্দ্রের কক্ষপথ এর ধারনা পরিস্ফুট করেন। হিন্দু পুরানে চন্দ্রের উপর দেবত্বারোপ করা হলেও তৎকালীন পন্ডিত বা গনিতজ্ঞরা চন্দ্রের অবস্থান অনুযায়ী পঞ্জিকা তৈরীর পদ্ধতি আবিষ্কার করে ফেলেন, যার আধুনিক সংস্করন হল এই "ক্যালেন্ডার "।এর থেকেই বোঝা যায় হাজার হাজার বছর আগেই ভারতবর্ষে মুনী ঋষীরা সূক্ষাতিসূক্ষ বিচারে কত উন্নত ছিলেন।
চন্দ্রকে নিয়ে সাহিত্যে বহু গান বা কবিতা লেখা হলেও পৌরানিক অ্যাখ্যানে চন্দ্রকে নিয়ে প্রচলিত আছে বহু গল্পকথা। এমন কোনো শিশু মনে হয় পাওয়া যাবেনা যে, "চাঁদমামা" বা "আয় আয় চাঁদমামা টি দিয়ে যা" শুনে বড় হয়নি। পুরানের কোথাও আবার চন্দ্রকে বলা হয়েছে ব্যভিচারী। ২৭ টি নক্ষত্রের স্বামী হিসেবে সে বিরাজ করছে আকাশগঙ্গায়। কোথাও বা তাকে মাতৃরূপে আরাধনা করা হচ্ছে। রাতের রানী সুধাংশু অনন্ত কল্যান, অনন্ত গুণসম্পন্না। এর স্বচ্ছতা এর স্নিগ্ধতা এর সৌন্দর্য অবর্ণনীয়, অপূর্ব এবং নয়নবিমোহনকারী। "Monday" এই ইংরেজি শব্দটির উৎপত্তি গ্রীক রোমান এবং ইন্দো ইউরোপিয়ান ক্যালেন্ডার থেকে। যেকোনো দেশ যেকোনো ধর্মেই চাঁদ বা সোমাকে অত্যন্ত সম্মানের জায়গা দেওয়া হয়েছে।
আজ এই চাঁদে মহাকাশ যান পাঠানো হচ্ছে। মানুষ রাখছে তার পদচিহ্ন। সেক্ষেত্রে এইসব গল্পগুলোকে রূপকথাই মনে হয়। তবু সূর্য বা চাঁদকে ঘিরে মানুষের মনে যে আবেগ তা চিরকাল হয়ত একই থাকবে। সূর্য যদি সমস্ত প্রানশক্তির এবং উর্জার প্রতীক হয়, তাহলে চন্দ্রকেও দিব্যশ্রী মূর্তি, চারুকলা, শীতলতা এবং স্নেহের প্রতিভূ হিসেবে মনে করা যেতেই পারে।
Share on Google Plus

About Vesuvius

Thanks you very much for read my POST. What you want, What you like, Which page is you like so much, Please tell me, I am waiting for your sweet response. Thanks Again.

0 comments:

Post a Comment

Thanks you Visit Awesome Raja.
www.awesomeraja.ml
classicalsujon@gmail.com