ads

#রজার_বেকনঃ #এক_স্বাধীন_চিন্তাবিদ


Writter : Jinia Moon
মধ্যযুগীয় পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাসে এমন বহু দার্শনিক দের নাম আমরা পেয়েছি যারা চিন্তা এবং ভাবনার জগতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী। প্রোটাগোরাস, অ্যানসেলম,রোজলিন,অ্যাকুইনাস সহ বিভিন্ন দার্শনিক গন যে শুধু ঈশ্বর, শয়তান, দেবতা, বা ঈশ্বরের অস্তিত্বের সত্বাতাত্বিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাই নয়, লেখনিশক্তি এবং বাগ্মীতার দ্বারা মানবসমাজ কে করতে চেয়েছেন সুনিয়ন্ত্রিত। সেরকমই একজন হলেন ব্রিটিশ দার্শনিক রজার বেকন। ১২৯৪ খ্রিষ্টাব্দে জন্ম হয় এই ব্রিটিশ ফ্রান্সেসিয়ান সন্ন্যাসীর। নিজের স্বাধীন চিন্তাধারা এবং মতামত প্রকাশের জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পদ থেকে তিনি বহিষ্কৃত হন।
কিন্তু অদম্য সাহস এবং শিক্ষা যার মধ্যে থাকে, কোনো বাধাই তার কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ায়না। পরবর্তীকালে পুনরায় সেই একই কারনে তাঁকে প্যারিসে ফ্রান্সেসিয়ান নিয়ম অনুযায়ী কারারুদ্ধ করা হয়। তবুও নিজের মতপ্রকাশ তিনি সবসময় করে গেছেন, চিন্তার বিকাশ ঘটিয়েছেন সর্বত্র। তাঁর অসংখ্য লেখনীর মধ্যে বিখ্যাত গ্রন্থটি হল- "ওপাম মাজুস"(opum majus). পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাসে এটি খুলে দেয় এক নতুন দিগন্ত।
অসম্ভব মেধাবী এই দার্শনিক সন্ন্যাসী বিজ্ঞান এবং দর্শনকে ধর্মতত্ব থেকে পৃথক করেন। ধর্মতত্ব কে অসীম গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। তিনি মনে করতেন বিজ্ঞানের কাজই হল যেকোনো জিনিসকে নিয়ে তলিয়ে ভাবা, নতুন কিছুর উদ্ভাবন। ধর্ম কখনো বিজ্ঞানের উপরে যেতে পারেনা। তবুও ধর্মকে পুরোপুরি অস্বীকার করা বা বাদ দেওয়াও যায়না। বৈজ্ঞানিক আবিস্কার বা অনুসন্ধানের পথে থিওলজি যেন কোনো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, এই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। তাহলে দেখা যাচ্ছে, উগ্রবাদী চিন্তাধারার মানুষ উনি নন। বিজ্ঞানের আবিস্কার দরকার, তেমন ধর্ম বলতে মানুষের একটা "বিলিফ" বা "ফেইথ", তাকে উড়িয়ে দেবার কথা উনি ভাবেননি।
একাধারে বিজ্ঞানের প্রতিফলন, প্রতিসরন ইত্যাদি সূত্রগুলি সম্পর্কেও তাঁর অঢেল জ্ঞান ছিল, আবার তিনিই প্রতিফলন বোঝার জন্য আয়না, ম্যাগনিফাইং গ্লাস ব্যাবহারের প্রচলন করেন যদিও টেলিস্কোপ আবিষ্কার এর পক্ষে সেই সময় বা সেই যুগ এত উন্নত ছিলনা। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ওষুধ তৈরী, বিস্ফোরোক তৈরী করার রহস্যের উপর কাজ করার প্রয়োজনীয়তা প্রথম তিনিই অনুভব করেন। আর একদিকে জ্যোতির্বিদ্যার সাথে জ্যোতিষ শাস্ত্রের উপরও তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। এই শাস্ত্রকেও তিনি বিজ্ঞানসম্মত এবং গানিতিক পদ্ধতিতে প্রচার কর‍তে চেয়েছিলেন। মানবজীবনের উপর নাক্ষত্রিক প্রভাব তিনিই উপলব্ধি করেছিলেন। জ্যোতিষ কে কুসংস্কার মুক্ত ভাবে প্রচার করতে চেয়েছিলেন।
দার্শনিক অ্যারিস্টটল এর মত তিনিও বিশ্বাস করতেন, এই মহাবিশ্ব এক। এবং তিনিও গুরুত্ব আরোপ করেছেন "বিশেষের" উপর। তিনি মনে করতেন অভিজ্ঞতা দুইভাবে লাভ করা যায়। এক ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষন পরীক্ষনের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ভাবে যে অভিজ্ঞতা লাভ হয়। এই অভিজ্ঞতাই কিন্তু আধ্যাত্মিক স্তরে আমাদের মন-আত্মা-শরীরের ব্যালেন্স করতে সাহায্য করে। এবং এই অভিজ্ঞতাই আবার আমাদের অন্তরস্থ যে শক্তি, বা শক্তি তাকে যে নামই দেওয়া হোক না কেন, তার কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করে এবং সেই শক্তিই হল ঈশ্বর।
গনিত এবং যুক্তিবিদ্যা এনার সবচেয়ে প্রিয় বিষয় এবং গনিত এর জ্ঞান ছাড়া জ্যোতির্বিদ্যা বা অ্যালকেমির সার্বিক উন্নতি সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করতেন। আরবীয় বৈজ্ঞানিক এবং পিথাগোরাসের মত ইনিও সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এর উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।( what exists, exists in number).
এই মহান দার্শনিক ধর্মতত্ব কে বিজ্ঞান-দর্শনের উপরে স্থান দিলেও একইসাথে গ্রীক, হিব্রু এবং আরবীয় ভাষা নিষ্ঠার সাথে চর্চা করেছিলেন খ্রিষ্টান ধর্মতত্বের জটিল তত্বকে উদ্ধার করতে। অনেকের মতে তিনি জ্যোতির্বিদ্যা আর জ্যোতিষ শাস্ত্র কে এক করে ফেলেছিলেন। অ্যালকেমি আর কেমিস্ট্রি এক করে ফেলেছিলেন। অর্থাৎ, অভিযোগ এসেছিল তিনি সমাজে কুসংস্কার ছড়াচ্ছেন। কিন্তু গানিতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিশুদ্ধ বুদ্ধির মাধ্যমে বিচারের যে ধারা তিনি প্রবর্তন করেছিলেন, তারজন্য পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাসে তাঁর নাম অক্ষয় হয়ে থাকবে।
তিনি এমন এক নবযুগের প্রবর্তন করেন, যে যুগে মানুষ পুঁথিগত শিক্ষার থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল হয়, গনিত হয়ে ওঠে প্রায়োগিক বিজ্ঞান, জ্যোতিষ এবং জ্যোতির্বিদ্যা চর্চা থেকে পরিনত হয় চর্যায়। যদিও খ্রিষ্টান সমাজে জ্যোতিষ চর্চার জন্য তাঁকে কঠিন বিদ্রুপের সম্মুখীন হতে হয়। গীর্জা এবং যাযক সম্প্রদায় সরব হয় বেকনের বিরুদ্ধে। কারন,স্বাধীন বা নতুন কোনো চিন্তাই মানুষ গ্রহন করতে যে পারেনা সহজে। যুক্তি, বিদ্যা, গনিত সমাজের সর্বস্তরে যে নবজাগরণ তিনি ঘটিয়েছিলেন, আজ তাঁর মৃত্যুর এত শতাব্দী পরও তাঁর এই স্বাধীন চিন্তার প্রভাব রয়েই গেছে এই সমাজে। পাশ্চাত্য তথা বিশ্বের দর্শনের ইতিহাসে স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে এই সন্ন্যাসী -দার্শনিকের নাম।
সূত্র- "Critical history of western philosophy"( Y. Mashi)
Share on Google Plus

About Vesuvius

Thanks you very much for read my POST. What you want, What you like, Which page is you like so much, Please tell me, I am waiting for your sweet response. Thanks Again.

1 comments:

  1. The tubes are cut with a knife (partial cutting) while they're still cold. The curve and angle combinations are then created by the artisan. Once the tubing is complete, the tube needs to be processed. This process can vary from one country to the next. In the US, it is called "bombarding". The tube is partly evacuated. The tube is then partially evacuated. The tube is sealed and argon or neon are backfilled to a specified pressure according to the tube's diameter. Additional steps are needed to inject mercury into an argon-filled tube. These can be between 10-40ul depending upon the tube length and the climate.

    More info

    ReplyDelete

Thanks you Visit Awesome Raja.
www.awesomeraja.ml
classicalsujon@gmail.com